পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগে ৭ টি জিনিস মনে রাখুন।

বর্তমান সময়ে কোন পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করাv সুবিধা এবং লাভ উভয় রয়েছে। এক্ষেত্রে হতে পারে, আপনি কোন রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন।

Advertisement

আপনার মোবাইলের ডাটা 2G কিংবা 3G তে কাজ করছে। এরূপ মুহূর্তে আপনি যদি একটি ফ্রি ফোরজি ওয়াইফাই কানেকশন পান।

তাহলে আপনারা কতটা আনন্দিত হবেন, সেটা বলে বোঝানো যাবে না। আর যখন আপনি এরকম ফ্রী পাবলিক ওয়াইফাই পেয়ে যাবেন। তখন রেল স্টেশন এর ফ্রি ওয়াইফাই এর সাথে কানেক্টেড হতে পারবেন।

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগে ৭ টি জিনিস মনে রাখুন।
পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগে ৭ টি জিনিস মনে রাখুন।

আমরা জানি, আমাদের মোবাইলে ডাটা থাকার পরেও এমন কোন জায়গাতে যাওয়ার পর মোবাইল ডাটা গুলো ভালোভাবে কাজ করে না। সেই সময় আমাদের পাবলিক ওয়াইফাই অনেক ভালো কাজে আসে।

কিন্তু যেহেতু একটি পাবলিক ওয়াইফাই সকলের জন্য উন্মুক্ত করা। তাই এই ধরনের পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগে আপনাকে কিছু জরুরী নিরাপত্তা জানতে হবে।

Advertisement

বিশেষ করে আপনার ব্যক্তিগত ডাটা ও পরিচয় রক্ষা করার স্বার্থে, একটি পাবলিক ওয়াইফাই এর সঙ্গে কানেক্ট হওয়ার আগে নিজে দেওয়া তথ্য গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন। তা না হলে বড়সড় কোন বিপদে পড়ে যেতে পারেন।

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগে ৭ টি জিনিস মনে রাখুন

আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করি, তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে কাজ করতে হয়। সাধারণত আমরা স্মার্টফোন হাতে পেলেই ফেসবুক, youtube এ ঘোরাঘুরি করি।

বিশেষ করে আমরা যখন কোন পাহাড় অঞ্চলে ভ্রমন করে, সেখানে আমাদের মোবাইল ডাটা গুলো ভালোভাবে কাজ করে না। যার ফলে আমরা বিভিন্ন পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার উপায় খুঁজে থাকে।

সে জায়গাগুলোতে যদি পাবলিক ওয়াইফাই থাকে, সেগুলোতে পাসওয়ার্ড ছাড়াই আমরা ওয়াইফাই কানেক্ট করে ফেলি।

কিন্তু আপনি যদি পাবলিক ওয়াইফাই যে কোন জায়গায় গিয়ে ব্যবহার করতে চান? তাহলে, অনেক ধরনের ঝামেলায় পড়ে যেতে পারেন।

তাই আপনাদের সুবিধার্থে, আমরা এখানে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগে যে, জিনিস মনে রাখতে হবে। সে বিষয়ে ধারণা দেবো।

তাই চলুন আর সময় নষ্ট না করে, বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

01. অটোমেটিক কানেকশন বন্ধ রাখুন

পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলো ব্যবহার করার সময় আপনার ডিভাইস অর্থাৎ মোবাইল নিজ নিজ সেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে আপনি আপনার ইন্টারনেট ডাটা অনেকটাই সেভ করতে পারবেন।

তাছাড়া অনেক সময় বিষয়টা অনেক অসুবিধা জনক হয়। কিন্তু আপনি যদি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সে বিষয়গুলো দেখেন তাহলে একটা বিপদজনক ব্যাপার।

যেহেতু এই ধরনের পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলো সকলের জন্য উন্মুক্ত। তাই একটি পাবলিক ওয়াইফাই এর মধ্যে বিভিন্ন হ্যাকার সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি থাকে।

তাই বিভিন্ন হ্যাকার এই পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্যগুলো এক্সেস করার সুবিধা পেয়ে যাই অনেক গুন বেশি।

কিন্তু আপনি যদি নিজের মোবাইল ডিভাইসের অটোমেটিক ওয়াইফাই কানেকশন বন্ধ করে রাখেন। এতে করে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

তার মানে, পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলোর সঙ্গে যাতে আপনার মোবাইল বা ডিভাইস অটোমেটিক সংযুক্ত না হয়ে যায় সে বিষয়ে নিশ্চিত হবেন।

02. বিশ্বস্ত ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলোর সঙ্গে সংযোগ

বর্তমানে আপনি যখন কোন ব্যস্ত এলাকাতে প্রবেশ করবেন। তখন নিজের মোবাইল ডিভাইসের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এর তালিকা তে, একাধিক পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলো দেখতে পারবেন।

যখন আমরা কোন ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক পেয়ে যায় তখন দ্রুত সে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করার লোভ সৃষ্টি হয়। কে না চায় ফ্রিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে।

তবে একটি অজানা পাবলিক ওয়াইফাই এর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আপনার ডিভাইসের মধ্যে থাকা ব্যক্তিগত ডাটাগুলো হ্যাকারদের কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই নিজের ডিভাইসের মধ্যে থাকা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তায় রাখতে, কখনোই অজ্ঞাত পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন না।

কিন্তু আপনাদের পরিচিত কোন জায়গায়, যেমন- বিভিন্ন অফিস আদালত ইত্যাদির মধ্যে থাকা ওয়াইফাই গুলো অবশ্যই ব্যবহার করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

03. ফাইল ও ফোল্ডার শেয়ার

অনেকেই বিভিন্ন সময় পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে বিভিন্ন ফাইল এবং ফোল্ডার শেয়ার করে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনারা অবশ্যই মনে রাখবেন। যখন আপনি কোন পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকছেন। তখন সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কখনোই কোন ফাইল বা ফোল্ডার শেয়ার করতে যাবেন না।

একটি পাবলিক ওয়াইফাই এর সঙ্গে যুক্ত থেকে ফাইল শেয়ার করা মানে, আপনার শেয়ার করা ফাইল সেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে যে কেউ দেখে ফেলার সম্ভাবনা থাকে।

তার জন্য কোন অজ্ঞাত পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকাকালীন কোন ধরনের ফাইল এবং ফোল্ডার শেয়ার করবেন না।

আর পারলে, আপনারা মোবাইলের ফাইল শেয়ারিং অপশনটি বন্ধ করে দিবেন।

04. অনলাইন ব্যাংকিং সাইট এর ব্যবহার

আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো নিরাপত্তায় রাখার জন্য, আপনার উদ্দেশ্যে বলছি, কোন প্রকার পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা অবস্থায়, ব্যক্তিগত কোন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন না।

তার মধ্যে হতে পারে অনলাইন ব্যাংকিং, সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট ইত্যাদি। আপনি যদি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে এই ধরনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট লগইন করেন। তাহলে কিন্তু আপনার সেই তথ্যগুলো বিভিন্ন হ্যাকারদের কাছে চলে যেতে পারে।

তাই বিষয়গুলো মাথায় রেখে, আপনাকে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হবে।

05. ভালো একটি VPN ব্যবহার করুন

আপনারা ভালো একটি ভিপিএন ব্যবহার করার মাধ্যমে, যেকোনো পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সময় নিজের তথ্যগুলো নিরাপদে রাখতে পারবেন।

আপনারা যে কোন পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সময় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত করতে, সহজেই ভিপিএন অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

আপনার যখন একটি ভালো ভিপিএন ব্যবহার করবেন তখন তার মাধ্যমে আপনার ডাটা গুলো একটি নিরাপদ এনক্রিপ্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুনরায় রুট করবে।

যার ফলে একটি পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মধ্যে থেকেও আপনি সুরক্ষিত থাকতে পারবেন। বর্তমান সময়ে আপনারা অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ সহ প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

06. সর্বশেষ সিকিউরিটি আপডেট

বিভিন্ন সময় আমাদের মোবাইলে চলে আসা বিভিন্ন সিকিউরিটি আপডেট গুলো আমরা এড়িয়ে চলি। তার কারণ আমাদের ডিভাইসের মধ্যে ইন্সটল করা থাকে না।

আপনারা অবশ্যই মনে রাখবেন এই ধরনের আপডেট আপনার মোবাইলে আসলে, নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপনার মোবাইলে যখনই সিকিউরিটি আপডেট দেয়া হবে। আপনারা দ্রুত সময়ের মধ্যে, সিকিউরিটি আপডেট সম্পন্ন করে নিবেন। এতে করে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলেও আপনার সকল প্রকার তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।

07. একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড

আর আপনারা সব সময় মনে রাখবেন একই পাসওয়ার্ড নিজের প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য ব্যবহার করবেন না। যখন আপনি একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের সংযুক্ত করবেন।

এতে করে হ্যাকারদের অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে আপনার অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক করা।

তাই আপনি বিভিন্ন একাউন্টে বিভিন্ন ধরনের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দেয়ার চেষ্টা করবেন। আর আপনি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময়, যদি কোন হ্যাকার আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড জানা যায়, আপনার একটি একাউন্ট ছাড়া অন্য কোন অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করতে পারবেনা।

তাই আপনার মোবাইলের সকল প্রকার তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। তারপর আপনারা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার চিন্তা করবেন।

শেষ কথাঃ

তো বন্ধুরা আপনারা একটি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময়, আপনাদের কোন কোন বিষয় মাথায় রেখে, ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হবে। এবং কিভাবে নিরাপদ থাকবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা পেলেন।

আশা করি আজকের এই আর্টিকেলটি ওয়াইফাই ব্যবহারের নিরাপত্তার টিপস গুলো আপনার অনেক কাজে আসবে।

তো এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর এই ধরনের আরো নতুন নতুন টিপস এবং ট্রিক্স আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন।

ধন্যবাদ।

Advertisement

Leave a Comment