চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় (বিস্তারিত জানুন)

আপনি কি চাকরির পাশাপাশি বাড়তি টাকা আয়ের কথা চিন্তা করছেন। যদি তাই হয় তাহলে আপনারা একদম সঠিক আর্টিকেলে চলে এসেছেন।

Advertisement

কারণ আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে, চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের দারুন কিছু আইডিয়া জানিয়ে দেবো।

যেগুলো পার্টটাইম হিসেবে করার পর, আপনারা মাস শেষে চাকরির পাশাপাশি ভালো পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন।

এখানে আমরা চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় হিসেবে বলব। সেগুলো বেশিরভাগ অনলাইন সেক্টরে। আপনারা চাকরির পাশাপাশি অবসর সময় যখন ইচ্ছা তখন স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায়
চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায়

অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় আপনারা চাকরির পাশাপাশি পার্ট টাইম হিসেবে, অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোতে কাজ করে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।

Advertisement

তাই আসুন আর সময় নষ্ট না করে জেনে নেয়া যাক। চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সেরা উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত।

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায়

আপনি যদি চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা ইনকাম করার উপায় খুঁজে দেখেন। অনলাইন সেক্টরের দিকে তাকালে আপনারা অসংখ্য কাজ পেয়ে যাবেন।

কিন্তু আমি আপনাদের সুবিধার্থে, এমন কিছু জনপ্রিয় অনলাইন সেক্টরের কাজ সম্পর্কে জানাবো। যেগুলোতে চাকরির পাশাপাশি কাজ করে, মাসে ভালো পরিমাণের রোজগার করতে পারবেন।

তাই আসুন জেনে নেয়া যাক চাকরির পাশাপাশি বাড়তি টাকা আয়ের সেরা পদ্ধতি গুলো।

ফ্রিল্যান্সিং

বলতে আমাদের বাংলাদেশের মানুষ আউটসোর্সিং কে বুঝে থাকেন। কিন্তু বিষয়টা এরকম নয়। আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

আপনাকে এক কথায় বলতে গেলে, আউটসোর্সিং হলো- যারা বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ গুলো ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে করিয়ে নেয় তাদেরকে মূলত আউটসোর্সার বলা হয়।

অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সার হলে- অনলাইন সেক্টরে আউটসোর্সারদের যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো ফ্রিল্যান্সাররা করে দেয়, তাদেরকেই ফ্রিল্যান্সার বলা হয়।

তাই আপনি যদি চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর গুলোতে কাজ করেন। সে ক্ষেত্রে মাসে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

কারণ ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আপনাকে অলটাইম কাজ করতে হবে না। আপনার এই সেক্টরে ঘণ্টাভিত্তিক চুক্তিতে, কার সম্পন্ন করে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইলে, আমি আপনাকে পরামর্শ দিব। চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং পেশা বেছে নিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করতে চাইলে আপনারা অসংখ্য পরিমাণে কাজ পেয়ে যাবেন।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাহিদা সম্পন্ন কাজের কিছু নাম হলো- গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং ইত্যাদি।

আপনারা এগুলো থেকে যে কোন একটি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করে নিয়ে, অনলাইন মার্কেটপ্লেস- ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদিতে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে, কাজ করে, চাকরির পাশাপাশি বাড়তি ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।

ব্লগিং

ব্লগিং সেক্টরকে এক কথায় বলা যায় লেখালেখির প্লাটফর্ম। ভার্চুয়াল জগতে এমন অসংখ্য পরিমাণের ওয়েবসাইট রয়েছে। যেখানে আপনারা লেখালেখির মাধ্যমে খুব সহজেই চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের পথ বেছে নিতে পারবেন।

আমাদের দেখা এমন অনেকেই চাকরিজীবী এবং স্টুডেন্ট রয়েছে। যারা এগুলোর পাশাপাশি ব্লগিং সেক্টরে কাজ করে ইনকাম জেনারেট করছে।

এছাড়া ব্লগিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ না থাকায় আপনি স্বাধীনভাবে যেকোনো সময় কাজ করার সুযোগ পাবেন। ব্লগিং হতে পারে আপনার চাকরির পাশাপাশি সেরা আয়ের মাধ্যম।

আপনি যদি একবার প্রফেশনাল ভাবে ব্লগিং সেক্টরে সফলতা অর্জন করতে পারেন। তাহলে চাকরির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টাকা ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।

কিন্তু আপনি যদি নিজে থেকে ব্লগিং শুরু করেন। সে ক্ষেত্রে আপনার সাইটটি গুগলের রেংকিং করাতে বেশ সময় লেগে যাবে। কারণ ব্লগিং করার জন্য আপনার কাছে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকতে হবে। এবং সেই সাইটে নিয়মিত আর্টিকেল পারভেজ করতে হবে।

তারপর যখন ওয়েবসাইটের আর্টিকেলগুলোতে, ভিজিটর আসা শুরু করবে। তখন আপনারা ব্লগিং সেক্টরে ইনকাম করার জন্য, ‍গুগল এডসেন্স আবেদন করতে পারবেন।

আর গুগল এডসেন্সের আবেদন করে আপনার যখন বিজ্ঞাপন দেখানোর অনুমোদন পেয়ে যাবেন। তখন থেকে মূলত আনলিমিটেড ইনকাম করার সুযোগ পাবেন ব্লগিং সেক্টর থেকে।

ইউটিউবিং

আপনার চাইলে ইউটিউবিং শুরু করে, চাকরির পাশাপাশি বাড়তি টাকা আয়ের পথ বেছে নিতে পারেন। বর্তমানে অনেক স্টুডেন্ট এবং চাকরিজীবী রয়েছে।

যারা তাদের সারাদিনের কাজকর্ম শেষ করে, প্রতিদিন রাতে দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় দিয়ে, youtube এর ভিডিও তৈরি করে, ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করার মাধ্যমে মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে।

ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম করার মূল বিষয় হলো ভিডিও আপলোড করা। তাই আপনারা চাইলে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে সেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ে ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে, গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক দ্বারা ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।

ফেইসবুক

আপনার ছেলে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ফেসবুকে একটি ইনকামের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

ফেসবুকে আপনি শুধুমাত্র ফ্রেন্ডের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান না করে, সেখান থেকে বিভিন্নভাবে আয় করার উপায় খুঁজেন। তাহলে সেটি আপনার চাকরির পাশাপাশি আয়ের সেরা মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।

কারণ ফেসবুকে বর্তমানে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইনকাম করার সুবিধা রয়েছে।

বিশেষ করে, আপনি চাইলে ফেসবুক পেজ তৈরি করে সেখানে, নির্দিষ্ট ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে ইনকাম করা শুরু করতে পারবেন।

অন্যদিকে আপনি ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করা ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট মার্কেটিং অর্থাৎ প্রোডাক্ট সেল করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।

ই-কমার্স

অনলাইন ভিত্তিক কেনাকাটার জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর জনপ্রিয়তা অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে ই-কমার্স ব্যবসায়ী অনেক প্রতারণার আশ্রয়ের নিচে বলে অনেকের বিশ্বাস।

তার মধ্যে আপনার সুযোগ আছে। আপনি যদি সৎ এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করে মানুষের আস্থা রাখতে পারেন। তাহলে ই-কমার্স ব্যবসা করে সহজেই বাংলাদেশ থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

তো আপনি ই-কমার্স ব্যবসায় মানুষের সামনে সৎ এবং নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করতে চাইলে, আপনাকে অবশ্যই গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে, ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

বিশেষ করে আপনি যখন একটি ই-কমার্স অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন, বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য। আর যখন কোন গ্রাহক আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট কেনার জন্য অর্ডার করবে, তখন আপনারা অ্যাডভান্স টাকা কখনো চাইবেন না।

আপনারা গ্রাহকদের প্রোডাক্ট তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিয়ে তারপর, প্রটেক্টের টাকা নিবেন তাহলেই, প্রতিটি গ্রাহক আপনাদের ই-কমার্স ওয়েবসাইটে বিশ্বস্ত হবে।

এরকম ভাবে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে পারলে, খুব সহজে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।

অন্যদিকে আপনার যদি নিজস্ব ই-কমার্স ওয়েবসাইট দেওয়া সামর্থ্য না থাকে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অসংখ্য জনপ্রিয় ই-কমার্স অর্থাৎ অনলাইন কেনাকাটার ওয়েবসাইট রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ

আপনার সেই ওয়েবসাইট গুলোতে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে, সেই সকল কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রচার করে বিক্রি করার মাধ্যমে, কমিশন আকারে ইনকাম করা শুরু করতে পারবেন। এই বিষয়টিও হতে পারে, আপনার চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সেরা মাধ্যম।

শেষ কথাঃ

তো বন্ধুরা, আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে, আপনাদের জানিয়ে, দিলাম অনলাইন ভিত্তিক চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় গুলো সম্পর্কে।

এখন আপনি অনলাইনের কোন সেক্টরে চাকরির পাশাপাশি কাজ করতে আগ্রহী। সে কাজটি বেছে নিয়ে কাজ শুরু করে দিতে পারেন।

আর অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার বিষয়ে, আরো নতুন নতুন আর্টিকেল পেতে, আমাদের ওয়েব সাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন।

ধন্যবাদ।

Advertisement

Leave a Comment